শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সময়

শিরোনাম:

● আলিমে পাসের হার ৬১.৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন ● এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন ● মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে ● টানা ছুটি শেষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোল বন্দরে ● মনপুরায় বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে জেলেদের সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ ● ইসরাইলে নির্বাচন শেষে অচলাবস্থা,সরকার গঠনে সামনে ৪ পথ খোলা রয়েছে ● বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মোটরসাইকেল টঙ্গী থেকে উদ্ধার ● দুই আসামি গ্রেপ্তার, নগদ ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও তিনটি স্ট্যাম্প জব্দ ● ৮৭ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ,পরিদর্শনে এমপি নুরুল ইসলাম ● ব্যাপক অনিয়ম ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ জামায়াতের,ইসির নিষ্ক্রিয়তায় গভীর উদ্বেগ....সেক্রেটারি
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জাতীয় নির্বাচন ও মুন্সীগঞ্জের রাজনীতি "আমরা দলবিরোধী, তারা বিরোধীদের নিয়ে দলীয়"

মুহাম্মদ মাসুদ রানা

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুলাই,২০২৬, ০৮:০৪ এ এম
জাতীয় নির্বাচন ও মুন্সীগঞ্জের  রাজনীতি   "আমরা দলবিরোধী, তারা  বিরোধীদের নিয়ে দলীয়"
মন্তব্য প্রতিবেদন
 
 জাতীয় নির্বাচন ও মুন্সীগঞ্জের  রাজনীতি 
 
"আমরা দলবিরোধী, তারা  বিরোধীদের নিয়ে দলীয়"
 
মুহাম্মদ মাসুদ রানা
 
 
"আমরা দলের পক্ষে লড়ে দলবিরোধী। তারা দলবিরোধীদের সাথে নিয়ে দলীয়!"
 
আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে একটি আদর্শকে ধারন করে রাজনীতির পথচলা শুরু করি, তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকলে হলে শুধু শ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য্যই নয় বরং শ্রম এমনভাবে দিতে হয় যে আপনার শত্রুও বলতে বাধ্য হয় আপনি পরিশ্রমী, ত্যাগ এতটা করতে হয় যতটা ত্যাগের পরে কেউ অস্বীকৃতি জানাবে না, ধৈর্য্য সাধারণ কোন ধৈর্য ধরলে চলবে না অসীম পর্যায়ে ধৈর্য ধারন করতে হবে যে ধৈর্য্য কখন অধৈর্য্য হবে না। এর সাথে দক্ষতা, মেধা, সাহসিকতা এই সবকিছু সবদিক থেকে যদি পারফেক্ট সমন্বয় রাখতে পারে তবে কিছুটা টিকে থাকার সম্ভবনা তৈরী হবে।
 
রাজনীতিতে আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই শুনে আসছি এবং সেটা শুনতেও ভালোই লাগত। তা হলো- "পরিশ্রমী, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদেরই মূল্যায়ন করা হবে" যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব দেয়া হবে" সবাই আমার মত হয়ত শুনেছেন এসব কথা, রাজনীতিতে বহুলপ্রচলিত এসব বাণী। তাদের যদি আপনি প্রশ্ন করেন যোগ্যতার মাপকাটি কি?  উত্তরে এটাই বলবে দলের জন্য ত্যাগ, বিসর্জন, পরিশ্রম, মেধা, দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নে অবদান ও ভূমিকাই যোগ্যতার মানদন্ডের ভিত্তি।
 
কিন্তু যা বলা হয়না তার ভিত্তিতেই মূলত নেতৃত্বের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়।অর্থ্যাৎ যা হরহামেশা আমরা বলতে শুনি তার বাস্তবায়নের চেয়ে বেশী বাস্তবায়ন হতে দেখি যে কথাগুলো বলা হয়না কখনো। কখনো বলা হয়না -"বিত্তশালী না হলে যোগ্য বিবেচিত হবেনা"। "কোন নেতার লোক না হলে যোগ্যতার বিবেচনায় থাকবেন না" দলের জন্য যা কিছুই করেন না কেন যদি নেতার রাজনীতিতে কাজে না আসে তবে সে নেতা কখনোই আপনাকে যোগ্যতার স্বীকৃতি দিবেনা।নেতার প্রতি অনুগত্যই হলো  যোগ্যতা বিবেচনার প্রথম ও প্রধান মানদন্ডের ভিত্তি।সে মানদন্ডে না পরলে যতই যোগ্যতা থাকুক, যতই ত্যাগ থাকুক,, যতই পরিশ্রমী বা পরীক্ষিত হোন না কেন কোন নেতা আপনাকে মূল্যায়ন করবে না।
 
এটা এমন সত্য যা বলবে না, যা বলা হয় তা সামগ্রিক বলার প্রয়োজনে বা বলতে ভালো শোনায় অথবা নেতাকর্মীরা এটাই শুনতে চায় বলে  তা বলা হয়।নেতাকর্মীদের রক্ত, ঘাম, জীবন ও সময় বিসর্জনের ন্যায্য মূল্য কোনদিনও দেয়া হয়না বরং মহাজনেরা মুনাফা নিজের করে নেয় সুকৌশলে।এটা অনেকেই বুঝে কিন্তু যখন বুঝতে পারে তখন কিছু করার বা বলার থাকেনা।বললে তাদের আর রাজনীতিও করার সুযোগই হয়ত রাখেনা।এটা রাজনীতির নির্মম সত্য যা এতকাল চলে আসছে সেই প্রেক্ষিতে এই বলাটা ভুল বলা নয়।
 
বাস্তব ঘটনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছি।এখানে কোন ব্যক্তি বা নেতাকে ছোট করার জন্য বলা নয়।বলার মূল্য উদ্দেশ্য দলের ভিতরে যা চলছে যেসকল প্রশ্ন জনমনে ঘুরতে তা তুলে ধরা যাতে দল বড় কোন ভুলের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।নেতাদের কেউ যাতে ভুল কাজে প্রভাবিত না করতে পারে।ভুলে যা ক্ষতি হয়েছে তা আমারই থাকুক অন্য কারো ক্ষেত্রে যেন এমন ষড়যন্ত্র কেউ না করতে পারে সেই জন্যেই বলা।আমাকে যখন বিনা নোটিশে আমার পদ করা  হয়েছিল। যেখানে আমার কোন ভুল ছিল না, অন্যায় ছিল না, দলের আদর্শ পরিপন্থী কোন কাজেও জড়িত থাকার অভিযোগও ছিলো না।
 
এটা কি দলের কল্যানে দলের স্বার্থে করা হয়েছিল? নাকি কোন ব্যক্তির স্বার্থরক্ষার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অংশের সূত্রপাত?
আমার পদ স্থগিত করে যাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব করা হলো তার বিরুদ্ধে কিছুদিন পূর্বে মৌসুমি হক নামে (তার স্ত্রীর) করা সম্পত্তি আত্নসাৎ ও পাঁচ বিয়ের অভিযোগ সত্য প্রমান হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাগ্রহন করা হয়নি। বিষয়টিকে কি স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ আছে? নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন এখানে টাকার কোন প্রভাব ছিলো না!
 
সে যে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক (সাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব করাটা কি খুব জরুরি ছিলো? সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাইনিং পাওয়ার থাকা সে পদে থেকেই তো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা বাধা ছিলনা যেহেতু সাক্ষর ক্ষমতা দেয়াই ছিল।সদস্য সচিব পদ থেকে আমাকে স্থগিত করা হয়েছে যেহেতু তা সাময়িক ছিল। তার জন্য সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক যার সাইনিং পাওয়ার আছে তাকে কেন ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দিতে হবে যার বিরুদ্ধে পাঁঁচ বিয়ে, স্ত্রীকে ব্যবহার করে স্ত্রীর সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ থাকার পরেও এই সিদ্ধান্ত কি দলের স্বার্থে নেয়া হয়েছিল? এতে দলের মান বেড়েছে না কমেছে?  দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত সিদ্ধান্ত নয় কি?
 
উদ্দেশ্য আরো পরিস্কার হয় যখন আমাকে বহিষ্কার করে সেই প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত নয় সরাসরি সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে দেয়া নোটিসে সেটা উল্লেখ করে দেয়া হয়।আমি কি এই কি প্রশ্ন করতে পারিনা যে তবে কি তাকে সদস্য সচিব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আমার পদ স্থগিত করা হয়েছিল যা আমাকে বহিষ্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলো? এই প্রশ্ন কি অযৌক্তিক?  যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তার একমাত্র যোগ্য অর্থ।তাহলে এটা বলাও অন্যায় হবে কি যে সে অর্থের অনৈতিক ব্যবহার বা প্রভাবেই আমার সাথে এই অন্যায় করা  হয়েছে? 
 
হয়ত আমার এই কথাগুলো তাদের নিয়ে কেউ দেখাতেও পারে।তারা যেন এই কথাটাও দেখায় আমি তাদের সম্মান করি শ্রদ্ধা করি।এটাও জানি।তারাও কোন কোন অদৃশ্য শক্তির অন্যায় সুপারিশ মানতে বাধ্য হয়ে যায় হয়ত।তাই কারো প্রতি অভিযোগ থেকে নয় তৃণমূলের বাস্তবতা তুলে ধরতে কথাগুলো বলেছি।প্রশ্ন কেন করা যাবে না? কেউ দলের জন্য জীবন দিতে দ্বিধা করেনি আর কেউ দলকে ব্যবহার করে  কোটি কোটি টাকা ধান্ধা করে সেই টাকায় দলের আদর্শিক নেতাকর্মীদের ন্যায্যমূল্য ছিনিয়ে নিবে তা মেনে নেয়া যায় কি!আপনাদের বিবেককেই প্রশ্ন করুন।
 
আমি নেতাদের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তাদের উপরে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেই রাজনীতি করে এসেছি।কিন্তু যখন এমন ঘটনা আমাদের সাথে ঘটে যে আমরা দলের আদর্শের প্রশ্নে কোনদিন আপোস করিনি, দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুকি নিতে দ্বিধা করিনি, যেকোন নির্দেশনা বাস্তবায়নে রক্ত দিয়েছি, ঘাম ঝরিয়েছি, হত্যার হুমকির পরেও থেমে যাইনি, কখনো দোষ বা অভিযোগ করার সুযোগ দেইনি।সেই আমাদের এভাবে যখন বঞ্চিত করা হয় আর এমন কাউকে মূল্যায়ন করা হয় যে শুধু সুবিধাই নিয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে আর একমাত্র যোগ্যতা অর্থ।তখন আমাদের প্রশ্ন করাটা কি অন্যায়?
 
একটু খেয়াল করে দেখুন- যুবদল, ছাত্রদল অথবা সংগঠনের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ পদে যখন কাউকে দেয়া হয় তখন কোন বিবেচনায় মূল্যায়ন করে? 
আপনি মানুন আর না মানুন তবে সত্য এটাই সে কার লোক! সেটাই মূল্যায়নের প্রথম ধাপ।যদি আমার লোক হয় তবে সে যোগ্য যদি আমার লোক না হয় তবে সে পদ প্রাপ্তিতে অযোগ্য।দলের জন্য যতই যোগ্যতা থাকুক দল তখন হেটে এসে আপনার যোগ্যতার মূল্যায়ন  করে না।আপনাকেই তখন উর্ধ্বতন অন্য কোন নেতার কাছে যেয়ে তাকে খুশি করে, তার (ব্যক্তির) আনুগত্য অর্জন করে উপর থেকে আনতে হয় যোগ্যতার সনদ।সেটাও কিন্তু ব্যক্তিকে মেনেই, ব্যক্তি আনুগত্য প্রকাশেই।
 
ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির সমষ্টিই দল।এখানে দল ব্যক্তির সমষ্টি আবার ব্যক্তিই দলের অস্তিত্ব।ব্যক্তিরা দল পরিচালনা করে। ব্যক্তিদের উপস্থাপন বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে দলীয়।ব্যক্তির চাওয়া পাওয়া স্বার্থরক্ষা করতে যেয়ে যদি  দলের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর তখন সে মতের বিপক্ষে যদি আপনি দলের প্রকৃত স্বার্থের পক্ষ নেন, তখন আপনাকে এমন দাগে ফেলে দিবে যে দাগটির নাম দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারি ,সেই সাথে সুবিধাজনক সুযোগ পেলে করে দিবে বহিষ্কার।এসব সিদ্ধান্ত দলের জন্য ক্ষতিকর, যারা এই সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় নানা চতুরতায় তারা দলের জন্য আরো বিপদজনক।ব্যক্তির সমষ্টিই তো দল, ব্যক্তিরা যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় আমি কি সত্যের পক্ষ নিতে পারিনা?
 
এটা দলের আদর্শের পরিপন্থী কোন কাজ  নয়।এটাই মূলত দলের স্বার্থে বলা।দলের পক্ষে থাকা।দলে  কথা বলার অধিকার অক্ষুন্ন রাখা, দলের কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে প্রতিবাদ করে সংশোধনের পথ উন্মোচিত রাখা।যখন আপনারা ব্যক্তি হয়ে ব্যক্তির স্বার্থরক্ষায় কাজ করেন তা যদি দলীয় হয়, তবে আমরা দলের স্বার্থরক্ষায় সত্য পক্ষ অবলম্বনে তা ব্যক্তিপূজারী বা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারি হই কিভাবে? হয়ত আপনারা ব্যক্তিস্বার্থটা রক্ষায় দলটাকে ঢাল হিসেবে সুকৌশলে ব্যবহার করতে জানেন!আমরা মাঠের কর্মী রোদে পুড়ে আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত দেহে  বুকে ক্ষোভ পুষতে পুষতে প্রতিবাদটা শিখেছি, সুকৌশলে অন্যের শ্রম রক্ত ঘামের মূল্য নিজের করে নিতে হয় কিভাবে তা শিখতে পারিনি।
 
আমাদের বিষয়ে যে বহিষ্কারাদেশ তা আজ যদি দল উঠাতে চায় তবে ব্যক্তি কেন বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে।এই বাধা দেয়া কি দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ব্যক্তিগত প্রভাবে ব্যক্তিস্বার্থে  দলীয় স্বার্থবিরোধী কাজ নয়!একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে আজ অবধি যা চলছে, যে বিভক্তির পথে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো...।
 
➖ লেখক- মোহাম্মদ মাসুদ রানা, জাতীয়তাবাদী যুবদল মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)