মুন্সীগঞ্জের সময় রিপোর্ট
মুন্সীগঞ্জে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক
প্রতি বক্স আলুবীজের বিক্রয়মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ
▪️ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী বিক্রি করলেই ব্যবস্থা
মুন্সীগঞ্জের সময় রিপোর্ট
আসন্ন আলু চাষ মৌসুমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ডিলার থেকে কৃষক পর্যায়ে প্রতি বক্স আলুবীজের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুন্সীগঞ্জ জেলার আলু ব্যবসায়ী, কোল্ড স্টোরেজ মালিক, সার ও বীজ ডিলার এবং কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক স্পষ্টভাবে জানান, নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে আলুবীজ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডিলারশিপ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হিমাগার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেছন, পূর্ববর্তী মতবিনিময় সভার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক ৮ থেকে ১০ মাস আলু সংরক্ষণের জন্য কেজিপ্রতি ৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি হিমাগার মালিকদের নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ এবং পল্লী বিদ্যুতের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানান, যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সংরক্ষিত আলু ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মুন্সীগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলা। এ জেলার আলু উৎপাদনকে আরও লাভজনক ও রপ্তানিমুখী করতে উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের আলুর জাত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে আলু রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যায়ক্রমে ইউরোপের বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কর্তৃক প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলার আলু উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, উন্নত জাতের আলু চাষ সম্প্রসারণ, বীজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, হিমাগার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদিত আলুর বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ বিল্লাল হোসেন, কন্দাল ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা শাহরিন, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সামির হোসাইন সিয়াম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, সার ও বীজ ডিলার নেতৃবৃন্দ, কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কৃষক নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সভায় সংযুক্ত ছিলেন।
সভায় আলু উৎপাদন ও বিপণনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উপজেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে আরও মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।