আব্দুল্লাহ আল মাসুদ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে চার বছরের শিশু তোয়াবা আক্তার ও তার বাবা গোলাপ হোসেন (৩০) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি প্রতিবেশী সোহরাব বেপারীকে (৬০) আদালতে পাঠালে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিরাজদিখান থানায় নিহত গোলাপের বাবা জয়নাল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন। মামলায় সোহরাব বেপারীকে প্রধান আসামি এবং কুয়েতপ্রবাসী আমির হোসেন মাতবরকে (৬২) দ্বিতীয় আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধান আসামি সোহরাবকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর দোসরপাড়া গ্রামে গোলাপের বাবার বাড়ি এবং খাসকান্দি গ্রামে শশুর বাড়ি চলছে চরম শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহত গোলাপ হোসেনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাতে দোসরপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে শিশু তোয়াবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।
নিহত গোলাপের বাবা জয়নাল মিয়া আকুতি জানিয়ে বলেন, আমার ছেলে ও নাতনির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি গরিব মানুষ, আপনারা আমার পাশে থাকবেন।
সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ শিউলি আক্তার (২৫) তাঁর ১১ মাস বয়সী ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জমিজমা আসবে-যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার স্বামী ও মেয়েকে মেরে ফেলল। কত কষ্ট দিয়ে মেরেছে ওদের! আমি এই হত্যার বিচার চাই।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালেও সোহরাবের লোকজন গোলাপকে মারধর করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটায়।
গোলাপের মামা আলম মোহাম্মদ বলেন, আমরা জমির কাগজপত্র বুঝি না, গোলাপ বুঝত। তাই ওকে মেরে ফেলা হয়েছে, যাতে আমরা জমি নিজেদের করতে না পারি।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ অন্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দিবাগত রাতে সিরাজদিখান উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে যাওয়ার পথে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা বাবা-মেয়ের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিশু তোয়াবাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং গোলাপ হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও বিষ খাইয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে তোয়াবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোলাপ।