মুন্সীগঞ্জের সময় রিপোর্ট
প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৯ মাস জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা
২৭০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ২৭১০ জন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ২১৬১ জন। আর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। একজন শিক্ষক ও একজন আইনজীবী।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডে ওয়ারী রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার পর্যন্ত ২৭১০ জনে দাড়িয়েছে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন আরও ৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭৯ জন। আর ছাড়পত্র নিয়েছে ৪০ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একাধিক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। একই পরিস্থিতি জেলার অপর ৫টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। সেখানেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশী। এখনও তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জে সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন ডাঃ সাজেদা বেগম।