মো. মানিক মিয়া, লৌহজং
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ পাসের অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এবারের ফলাফলেও জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ অর্জনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিভাগ থেকে মোট ৪১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৩ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৫ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে তিনটি বিভাগের পৃথক পাসের হারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পাসের হারও দাঁড়িয়েছে শতভাগ।
শুধু এবারের ফলাফলেই নয়, বিগত বছরগুলোর পাবলিক পরীক্ষাতেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে পাসের হারে প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নান্দনিক অবকাঠামো, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নিয়মিত পাঠদানের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে। ধারাবাহিক এ সাফল্য লৌহজং উপজেলার শিক্ষাঙ্গনেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, নিয়মিত পাঠদান ও অভিভাবকদের সহযোগিতাই এ অর্জনের অন্যতম ভিত্তি।
মন গৌরবোজ্জ্বল ফলাফলে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করে ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তানজিমা সুলতানা পারভীন রুম্পা বলেন, ‘২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে পাসের হারে আমাদের প্রতিষ্ঠান শীর্ষস্থান অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ অর্জন আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার ফসল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আগামীতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, ভালো ফলাফল এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই অর্জনের পেছনে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে এমন ফলাফল অর্জন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং লৌহজং তথা মুন্সীগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনের জন্যও গৌরবের। আগামী দিনগুলোতেও মানসম্মত শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।