রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সময়

শিরোনাম:

● আইসিসিবিতে জাপানি গাড়ির সমাহার নিয়ে তিন দিনের আয়োজন ● এইচএসসিতে মুন্সীগঞ্জে পাসের হার ৫০.৬২%, তিন প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল ● মাওয়ায় পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখালে সরকারও সম্মানিত হবে ● পাশের হারের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার ১০টি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ● মুন্সীগঞ্জে ওমেন্স ক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি ঝুমুর ও সম্পাদক সুমি ● মেলা নিয়ে উত্তেজনা গজারিয়ায় সমঝোতার খবর অস্বীকার আলেমদের ● জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে হরগঙ্গা কলেজ ▫️জিপিএ-৫ অর্জন ২৬ জন শিক্ষার্থীর ● গজারিয়ার মাইশার ঝুলিতে ৮ স্বর্ণ, এবার জুনিয়র থেকে সিনিয়র গেমসেও বাজিমাত. ● এইচএসসিতে শতভাগ পাস, জেলায় শীর্ষে লৌহজংয়ের ইউনুছ খান মেমোরিয়াল ● এইচএসসিতে সিরাজদীখানে টানা দ্বিতীয়বার পাসের হারে শীর্ষে বিক্রমপুর আদর্শ কলেজ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মেলা নিয়ে উত্তেজনা গজারিয়ায় সমঝোতার খবর অস্বীকার আলেমদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, গজারিয়া.

প্রকাশ : রবিবার, ১ নভেম্বর,২০২৬, ০৯:২৭ এ এম
মেলা নিয়ে উত্তেজনা  গজারিয়ায় সমঝোতার খবর অস্বীকার আলেমদের

 

গজারিয়ায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘লোকজ সংস্কৃতি ও কুটির শিল্প বাণিজ্য মেলা-২০২৬’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মেলা আয়োজন নিয়ে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আয়োজক কমিটির বৈঠক ও সমঝোতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এমন কোনো বৈঠক হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আলেমরা।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা জানিয়েছেন, মেলা বন্ধের দাবিতে তাঁরা আগের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

জানা গেছে, মেঘনা সেতুর পাদদেশে জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও নির্ধারিত ২২টি শর্ত মেনে মেলাটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মেলা বন্ধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন গজারিয়ার স্থানীয় আলেম সমাজ। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন মেলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেন আলেমরা।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়, আয়োজক কমিটির সঙ্গে স্থানীয় আলেমদের বৈঠকের মাধ্যমে মেলা আয়োজনের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। ওই বৈঠকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর হোসেন নূরানী উপস্থিত ছিলেন বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তবে এ খবরকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় আলেমরা। তাঁদের অভিযোগ, মেলা বন্ধের দাবিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। অথচ তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই সমঝোতার খবর প্রচার করা হয়েছে। মুফতি নূর হোসেন নূরানী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না থাকায় স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুফতি মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ, মাওলানা আল আমিন সরকার, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাইফী, মাওলানা মঈনুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেমরা।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী বলেন, ‘আমরা এই মেলা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলেছি, মেলা বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। হয়তো এখন আমাদের সেই কর্মসূচির দিকেই যেতে হবে। খুব দ্রুত জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, পরবর্তী পদক্ষেপ সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।

উপজেলা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি আল্লামা হাসান ফারুক বলেন, ‘মুফতি নূর হোসাইন নূরানী সাহেব আমাকে ফোনে জানিয়েছেন, এটি একটি জাতীয় প্রোগ্রাম। এখানে যাতে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ না হয়, তা মনিটরিং করতে এবং সে অনুযায়ী স্থানীয় আলেমদের দিকনির্দেশনা দিতে তাঁকে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা তো জানি, মেলার মধ্যেই অনেক খারাপ বিষয় রয়েছে। আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবারও একত্রিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাব।

অন্যদিকে, আয়োজকদের সঙ্গে কথা হলেও প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর হোসেন নূরানী।

তিনি বলেন, ‘আয়োজকরা আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এখানে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না। যেহেতু ব্যবসা হালাল, তাই ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ না হলে আমি মেলার বিরোধিতা করব না। তবে মদ, জুয়া কিংবা সার্কাসের মতো ইসলামবিরোধী কিছু হলে এক ঘণ্টার জন্যও মেলা হতে দেব না। মেলায় কোনো ধরনের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আলেমদের নিয়ে একটি যৌথ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে আয়োজিতব্য এ মেলার জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ রতনকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।###

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)